দ্বিতীয় স্বাধীনতার এক বছর : শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে আশা, হতাশা আর প্রাপ্তির হিসেব

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২২:১২, ৬ আগস্ট ২০২৫

দ্বিতীয় স্বাধীনতার এক বছর : শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে আশা, হতাশা আর প্রাপ্তির হিসেব

ছবি: সংগৃহীত

৫ আগস্ট ২০২৪, বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় স্বাধীনতার দিন হিসেবে বিবেচিত। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিনের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছিল এই দিনে। এক বছর পর সেই ‘স্বাধীনতা’ আদৌ কতটা কার্যকর হলো, কতটা পূরণ হয়েছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছেন দ্য নেক্সট নিউজের গোবিপ্রবি রেজওয়ান রাফি। 

বিষয় : বাকস্বাধীনতা কিছুটা ফিরেছে, কিন্তু ভয় এখনও কাটেনি

তাওহিদ আহমেদ : শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ


আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের দুটি স্বাধীনতা রয়েছে—প্রথমত ইংরেজদের কাছ থেকে, দ্বিতীয়ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে। ৫ই আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আমি স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন হিসাবে দেখি। যেভাবে মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তা ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। তবে এক বছর পরেও আন্দোলনের মূল দাবিগুলো উপেক্ষিত থেকে গেছে।

ন্যায়বিচার পেতে এখনো তদবির লাগে, আমলাতন্ত্রে এখনো রাজনৈতিক নিয়োগ চলে, বাকস্বাধীনতা থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলে সতর্ক থাকার বার্তা আসে। আমি চাই, বাংলাদেশ হোক এমন একটি দেশ—যেখানে আর রক্ত দিয়ে হোলি খেলতে হবে না, কিংবা কণ্ঠরোধের শিকার হতে হবে না।

বিষয় : বিশ্বাস ও বাস্তবতার মাঝে এক বিস্তৃত ফারাক

আহাদ : শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ছিল এক অসাধারণ জনগণের আন্দোলন গণতন্ত্র ও সমতার জন্য। মানুষ ভেবেছিল এবার ইতিহাস নতুনভাবে লেখা হবে। কিন্তু এক বছরের শেষে দেখা গেল, সেই বিশ্বাস আর বাস্তবতার মধ্যে বিশাল ব্যবধান। অন্তর্বর্তী সরকার আন্দোলনের অংশীদারদের মতামত উপেক্ষা করে, বিভিন্ন ইস্যু সংকুচিত করে, পুরনো নিপীড়নকেই আবার ফিরিয়ে এনেছে। নতুন করে মামলা-হত্যা বাড়ছে, সংস্কারের নামে তামাশা চলছে। সরকারের উচিত দ্রুত প্রকৃত সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।


বিষয় : দেশ ছিল আমার, এখন মনে হয় কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি

আরাফাত : শিক্ষার্থী, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ


স্বৈরশাসনের সময়টা জনসাধারণের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা তৈরি করেছিল। শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠেছিল দেশের নিউক্লিয়াস। দানবীয় শাসকের নাম শুনলেই যারা ভয় পেত, তারাই এখন প্রতিবাদ করে। মানুষের দেড় যুগের জমে থাকা স্বপ্নগুলো বের হয়ে এসেছিল। সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল—এই দেশটা আসলেই আমাদের।কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো আজ সুবিধাভোগীদের হাতে বন্দি।চাঁদাবাজি আর দখলবাজির ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেছে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন। তবুও বিশ্বাস করি, একদিন এই দেশ সত্যিকার অর্থে মুক্ত হবে—ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে। হয়তো আমাদের ধৈর্য্য আরও দরকার।

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন