চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঢাবি অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১:১৫, ১৬ জুন ২০২৬

চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ঢাবি অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুলের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মোঃ রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে গবেষণা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে প্রাথমিকভাবে সত্যতা মেলায় বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ড. মো. রিদওয়ানুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধের মধ্যে প্রায় শতভাগ মিল থাকার বিষয়টি বহুদিন ধরে বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছে। এ নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে একসময় তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তৎকালীন প্রশাসনের প্রভাবে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন 'সাদা দল' এই অনিয়মসহ ড. রিদওয়ানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পেশ করে। স্মারকলিপি পাওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় জানতে চায়। জবাবে বিজনেস অনুষদের ডিন অভিযোগকে গুরুতর উল্লেখ করে এবং যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত সাপেক্ষে নতুন তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া অথবা সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। পরে প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মতামত চাইলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই ধারাবাহিকতায়ই বর্তমান তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

এদিকে ড. রিদওয়ানুলের বিরুদ্ধে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি নীল দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে নানা সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ আছে। নীল দলের আইবিএ ইউনিটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে তার ভোট প্রদান ও দলীয় সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণের প্রমাণও পাওয়া গেছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে নীল দলের ৭৬০ জন শিক্ষকের যে স্বাক্ষরিত বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল, তাতেও তিনি স্বাক্ষর করেছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত একটি 'কেস বুক'-এর সমন্বয়ক ও মূল লেখক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এছাড়া আইবিএর পাঁচ নারী সহকর্মী তার বিরুদ্ধে হেনস্তার লিখিত অভিযোগ করেছিলেন, যা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের মতো গুরুতর অভিযোগেও সিন্ডিকেট কর্তৃক তাকে কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, অথচ একই অভিযোগে অনেক শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জিএ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন