জ্বালানী নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে জ্বালানীর বিকল্প উৎস কী?

মো. হাবিবুর রহমান

প্রকাশ: ১৪:৩২, ৭ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানী নিরাপত্তা ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে জ্বালানীর বিকল্প উৎস কী?

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর কম সংখ্যক রাষ্ট্রই জ্বালানী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব কিংবা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। সময় এসেছে এ বিষয়ে পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা এবং বিকল্প জ্বালানী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা। উন্নত বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পরমাণু অস্ত্র ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রসমূহ জ্বালানী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ জ্বালানী নিরাপত্তাকে ‘‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার” এবং ‘অভ্যন্তরীণ নীতির মূল কেন্দ্র’ হিসেবে নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জ্বালানীর নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একই দৃষ্টিভঙ্গি ও গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। সুতরাং সময় এসেছে বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তাকেও একই গুরুত্ব এবং অগ্রাধিকার দেওয়ার।

মাইকেল টি ক্লেয়ার (২০১৮) তার “এনার্জি সিকিউরিটি” অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেন- জ্বালানী উৎসের মোট তিনটি উপাদান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত যা যথাক্রমে তৈল, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। এগুলো আবার সীমিত সম্পদ যা গত এক শতাব্দির বেশি সময় ধরে শোষিত হচ্ছে এবং ভোগের পর তা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে কিংবা ক্রমশ কমছে। আবার এ সীমিত সম্পদের মজুত হয়তো মানুষের নাগালের দূরবর্তী স্থানে কিংবা যেখানে এগুলো সংরক্ষিত আছে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে পৌঁছানো খুবই কঠিন। অন্যদিকে তদস্থলে পৌছালেও সেগুলো পুনরুদ্ধার করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। এগুলো সাধারণত আর্কটিক মহাসাগর (সুমেরু মহাসাগর/উত্তর মহাসাগর) এবং গভীর মহাসাগর/সমুদ্রে অবস্থিত। তাছাড়া এ জ্বালানী সম্পদের প্রধান ভোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রসহ অন্যান্য রাষ্ট্র। জ্বালানী উত্তোলনকারী এবং বিদেশী সরবরাহকারীর নিকট থেকে এগুলো পেতে অনেক ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়।

তাছাড়া সরবরাহ প্রক্রিয়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয় বিধায় এ জ্বালানী সম্পদ পাইরেসি, সন্ত্রাসী হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক এবং মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ায় এ জ্বালানী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট যার জ্বলন্ত উদাহরণ। অনেক বিশ্লেষক এ বিষয় নিয়ে চিন্তিত যে, ভবিষ্যৎ-এ কোন সংকটে এ জ্বালানী নিরাপত্তা অপর্যাপ্ত জ্বালানী হিসেবে দৃশ্যমান হতে পারে। যার গুরুত্ব জাতীয় চাহিদা হিসেবে বিবেচিত হবে। সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, জ্বালানী নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যূতে যে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা দিতে পারে, তা ক্রমান্বয়ে প্রকট হচ্ছে। এছাড়াও ভবিষ্যৎ জ্বালানী নিরাপত্তা সংকট যে শুধু অনুমান করা হয়, তা নয় বরং বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে এখন এটা আরো বাস্তবিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা দিয়েছে।

বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রের সাথে ইরান যুদ্ধ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক অচলাবস্থার কারণে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান যুদ্ধে জ্বালানী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত করেছে। বর্তমানে আরেকটি সমস্যা এখানে উল্লেখযোগ্য- সেটা হলো জ্বালানী অবরোধ ও যুদ্ধে জড়ানো। ১৯৭৩-৭৪ খ্রিস্টাব্দে আরবদের তেল অবরোধ আমাদের সবারই বোধগম্য থাকার কথা। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবরে ইউম কাপুর যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট কর্তৃক ইসরাইলকে সহযোগীতা করার জন্য আরবরা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির পাল্টা হিসেবে তেল অবরোধ আরোপ করে। এটা  জ্বালানী ও পেট্রোল সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক কমিয়ে দিয়েছে এবং কিছু দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নানা কৌশল ও বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী প্রচেষ্টা চালিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সফল হলে ও এখন বিকল্প পথ পরিপূর্ণ তৈরী হয়নি। ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্য কূটনীতির সাথে সম্পর্কিত বিধায় একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সমস্যা, বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশ ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় এমন এক অবস্থায় রয়েছে যে, ভূরাজনৈতিক অবস্থা, বৈশ্বিক পরাশক্তি এবং আঞ্চলিক পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের নানা নীতিকে আমলে নিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। অনেক সময় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেনা। তাই অনেক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। কিছুদিন পূর্বে তথা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশের সামনে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের করণীয় দিক নির্ধারণ করতে হবে।

তেল উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী রাষ্ট্র এবং ইসলামিক মূল্যবোধ চর্চাকারী রাষ্ট্রসমূহের সাথে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কারণ, দিনশেষে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং আমাদের অগ্রাধিকার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ”আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন -এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ২৫, 1[***] জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা-এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র- (ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করিবেন; (খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করিবেন; এবং (গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করিবেন৷ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্র মতে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে বর্তমান যে বিবাদ রয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাছি অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কর্তৃপক্ষকে অবজ্ঞা করে হরমুজ প্রণালীতে নতুন একটি রুট তৈরি করার চেষ্টা করছে, যা উভয় দেশের মধ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে লঙ্ঘন করেছে। যা সমস্যাকে আরো উৎসকে দিবে।

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। না হলে তেলের বাজার ও জ্বালানী সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতিতে আবার অচলাবস্থা শুরু হবে। ফলত, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা বাণিজ্য, মুক্তবাজার এবং বৈদেশিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ অচলাবস্থা থেকে বিশ্ব আবার কবে মুক্তি পাবে? তার জন্য আমাদের আরো অপেক্ষা করতে হবে। সমঝোতা স্মারকের বদলে কোন দীর্ঘমেয়াদী শান্তিচুক্তি হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য দিক হলো আন্তর্জাতিক চুক্তি পর্যালোচনা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ এর ক তে উল্লেখ রয়েছে- 1[১৪৫ক। বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেন; তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।] এখন প্রশ্ন হলো গত কয়েক দশক এ প্রক্রিয়া পরিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে কি না? তা পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত। কারণ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এ জাতীয় বিষয় সাধারণ জনগণ অবগত না থাকা এবং জাতীয় সংসদে পর্যালোচনা না হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

জ্বালানীর বিকল্প উৎস নিয়ে গবেষক ও জ্বালানী বিশেষজ্ঞদের নানা পরামর্শ রয়েছে। জ্বালানী বিকল্প উৎস হলো- সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি ও জল বিদ্যুৎ শক্তি ইত্যাদি। মানুষ সমাজের চাহিদা মেটানো ও শিল্প বিপ্লবের কারণে জ্বালানী শক্তির গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানী ক্রমশাই হ্রাস পাচ্ছে যা পরিবেশের উপর মারাত্নক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিকল্প জ্বালানী শক্তির উৎসের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য হলো-পানি শক্তি, ভূতাপেয়ী শক্তি ও বায়োগ্যাস শক্তি ইত্যাদি। এগুলো বিকল্প জ্বালানী শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে নিম্নলিখিত বিষয় যথাক্রমে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর নির্ভরতা হ্রাস , পবিবেশ বান্ধব কার্বন নিঃসরন কম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর খরচ হ্রাস, টেকসই শিল্পায়ন গড়ে ওঠা এবং শক্তি সরবারাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ইত্যাদি নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশ জনবহুল দেশ, ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াজতাকরণ অঞ্চল বৃদ্ধি পাওয়াতে জ্বালানী নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ এবং অন্যান্য অফিস আদালতে বিদ্যুত বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রেও জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ বিষয়ে কোন অবহেলা কাম্য নয়। সম্প্রতি শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন এবং সরকার (২০২১) তাঁদের “এনার্জি ক্রাইসিস ইন বাংলাদেশ . .  .” প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে ১৭০ মিলিয়ন লোকের জন্য সীমিত সম্পদ ও অবকাঠামো দিয়ে সাশ্রয়ী নিরবচ্ছিন্ন এবং মানসম্মত জ্বালানী শক্তি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে গিয়েছে। গত এক দশক পূর্বে বাংলাদেশে জ্বালানী শক্তি সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ৫০% ব্যবধান ছিলো। সম্প্রতি এ ব্যবধান ২৬% এ এসে উপনীত হয়েছে।

এ ব্যবধানের হার একক কিংবা শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে হবে। সুতরাং জ্বালানী নিরাপত্তা আরো বেশি অগ্রাধিকার এবং নীতিগত বিষয়ে অর্ন্তভূক্ত করলে তা আরো কমে আসবে। জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং সরকার সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো প্রয়োজনীয় উদ্যেগ গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সমন্বয় থাকতে হবে। যাতে করে জ্বালানী নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। জ্বালানী নিরাপত্তা টেকসই ও যুগোপযুগী করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও নীতি বাস্তবায়নে দ্রুত মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। কারণ জ্বালানী সংকট এখন জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যূতে রূপান্তরিত হয়েছে।

লেখক,
মো. হাবিবুর রহমান
কবি, গবেষক ও বিশ্লেষক

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন