টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:১২, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রদল নেতা মির্জা ফারুক। টিএনএন সম্পাদিত
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টার পর কলেজের সামনে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের এক নেতার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ শিবিরের প্রায় ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম। সংঘর্ষ চলাকালে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা গেছে ছাত্রদল-যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীকে।
সকাল ও বিকেলের সংঘর্ষের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজে নীল শার্ট পরিহিত এক যুবককে হাতে বড় কিরিচ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই যুবকের নাম মির্জা ফারুক। তিনি চট্টগ্রামের এম ই এস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।
ফারুকের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের এমপি ও মন্ত্রীদের সাথে ছবি শেয়ার করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও সংঘর্ষের সময় হেলমেট পরিহিত আরও বেশ কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে শিবিরের উপর হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ মিছিলে পুণরায় হামলে পড়ে ছাত্রদল। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দেখা যায়
ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখার প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম দাবি করেন, সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আশরাফ হোসেন নামের এক কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রাফিতি মুছে “গুপ্ত” লেখা হয়েছে। তারা যদি গুপ্ত না হয়, তাহলে তাদের কেন গায়ে লাগল!’
জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালে লেখা ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’ গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার রাতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা-কর্মী দেয়ালে থাকা ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে প্রথম দফা সংঘর্ষ বাধে।
চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, সকালে সংঘর্ষের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম জানান, সামি মো. আলাউদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় সেলাই দেওয়া হয়েছে। পরে পরিবার তাঁকে বাসায় নিয়ে গেছে।
১৯৫৪ সালে চট্টগ্রাম নাইট কলেজ নামে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাস কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসটি রাজনীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। আগে কমিটি থাকলেও ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হয় ছাত্রদল।
/এআর