চবিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ‘নিজের মনকে জানুন’ উৎসব

চবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩:১২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

চবিতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ‘নিজের মনকে জানুন’ উৎসব

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনা মূল্যে পরামর্শসেবা দিতে ‘নিজের মনকে জানুন’ শীর্ষক দিনব্যাপী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও স্কুল অব হ্যাপিনেস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্কুল অব হ্যাপিনেসের প্রতিষ্ঠাতা ও আয়োজনের সহ-আয়োজক সাকিব আহমেদ। 

এতে সহযোগিতা করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লাইফস্প্রিং। আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

সকাল ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে উৎসবের উদ্বোধন করেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। এ সময় তিনি তরুণ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা রক্ষা ও এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।

উৎসবের প্রথম পর্বে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য যাচাই, মূল্যায়ন ও প্রাথমিক পরামর্শসেবা দেওয়া হয়। চবি মেডিকেল টিমের পরামর্শক মিথিলা ফারজানা হক, শান্তা ইসলাম ও শাহারিয়া রহমান নাবিলার পাশাপাশি শিক্ষানবিশ পরামর্শক সলিমা বিনতে রিপা, রেজওয়ানা পারভীন শান্তা ও সোভিত চাকমা এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

দ্বিতীয় পর্বে দুপুর সাড়ে ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাইফস্প্রিং চট্টগ্রাম শাখার মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক মো. ইমরান হোসাইন এবং মনোবিজ্ঞানী আফরোজা আফরিন আলোচনা করেন। কর্মশালায় মানসিক কষ্ট ও বিষণ্ণতা মোকাবিলা, মানসিক দৃঢ়তা তৈরি, ডিজিটাল যুগে আত্মপরিচয় ও পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কর্মশালার শেষ পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞরা। পরে আয়োজকদের সনদ, শিক্ষানবিশদের স্বীকৃতি এবং আমন্ত্রিত বক্তাদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, দেশে শারীরিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসায় হাসপাতাল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো ততটা সহজলভ্য নয়। শিক্ষার্থীদের এ সংকট দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

চাকসুর নির্বাহী সদস্য ও আয়োজক প্রধান জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু এসব সমস্যা নিয়ে সচেতনতা ও প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম। এ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন