টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৩১, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জবি ও ছাত্রদলের লগো। ফাইল ফটো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজানের সময় গান বাজানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে –এর নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ আনেন তিনি। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে যোহরের নামাজের সময় গান বাজানো হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিলে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে তাকে ডেকে নিয়ে একদল নেতাকর্মী ঘিরে তিরস্কার করা হয়।
ফাতেমা তুজ জোহরা তার পোস্টে লিখেছেন, ক্যাম্পাসে আজানের সময় গান বাজানো হচ্ছিল। নামাজ ও আজানের সময় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু থাকার বিষয়ে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন। এরপর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রদলের সভাপতি তাকে কথা বলার জন্য ডাকেন। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন ২০ থেকে ২৫ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তাকে মাঝখানে রেখে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, “তুমি পোস্ট কেন দিয়েছো? মববাজি করো? প্রপাগান্ডা ছড়াও? তোমার কাছে কোনো প্রমাণ আছে?”
তিনি জানান, এতজনের মাঝে একা হয়ে পড়ায় তিনি ভীত ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। তবুও তিনি জানান, সেদিন তিনি নিজে মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই অভিযোগ শুনেছেন। এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমেও একাধিক পোস্ট দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ফাতেমা তুজ জোহরার দাবি, ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি রইস স্যার উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রদল সভাপতি তাকে দেখিয়ে বলেন তারা গান বাজাননি এবং এ ধরনের অভিযোগ সহ্য করা হবে না। পরে রইস স্যার তার বিভাগ জানতে চান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে বলেন, “তুমি থামো হিমেল। ও আর পোস্ট দেবে না।” সেখানে জকসু নির্বাচনে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের পরিবহন সম্পাদক মাহিদ ও আতিক স্যার উপস্থিত থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে আপত্তি জানাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একজন নির্বাচিত হল সংসদ প্রতিনিধি হিসেবে এভাবে প্রকাশ্যে তিরস্কৃত হওয়ায় তিনি অপমানিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। তার ভাষায়, একটি পোস্টের জেরে ২০-২৫ জনের মধ্যে দাঁড় করিয়ে এভাবে ধমক দেওয়া তার কাছে হেনস্তার শামিল। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে তার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় ছাত্রদল সভাপতির ওপর বর্তাবে।
জানা গেছে, এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘গণতন্ত্রের বসন্ত’ শীর্ষক দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজন করে শাখা ছাত্রদল। সেখানে সঙ্গীত পরিবেশনা, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও ব্যান্ড পারফরম্যান্স ছিল। ফাতেমা তুজ জোহরার অভিযোগ, যোহরের নামাজের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, তিনি নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নামাজের সময় গান বন্ধ রাখা হয়েছিল। নামাজ শেষে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা হয়। তার ভাষ্য, পরে ফেসবুকে ফাতেমা তুজ জোহরার পোস্ট তার নজরে আসে। ক্যাম্পাসে দেখা হলে তিনি কেবল বিষয়টি নিয়ে জানতে চান। “আমি তো ছিলাম, এমন হওয়ার কথা না। আর হয়ে থাকলে আমাকে জানালে আবার বন্ধ করতাম। বিষয়টা এতটুকুই,” বলেন তিনি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
/এআর