টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:২৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শপথ গ্রহণ করছে জামায়াতের সংসদী শক্তি। সংগৃহীত
এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়ে দেশের সংসদীয় ইতিহাসে চতুর্থ বৃহত্তম বিরোধী দল হতে যাচ্ছে । সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি জোটগতভাবে ৭৭টি আসনে জয় পেলেও এককভাবে ৬৮টি আসন নিয়ে তারা বিরোধী আসনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে দলের আমির শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। পাশাপাশি জোটসঙ্গী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এনসিপি পৃথক সংসদীয় দল গঠনের চিন্তা করছে বলেও জানা গেছে। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ অধিবেশন শুরু হলে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পরই বিরোধী দলের কাঠামো চূড়ান্ত হবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের ৬৮টি, এনসিপির ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২টি এবং খেলাফত মজলিসের ১টি আসন রয়েছে।
সংসদের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন নিয়ে বিরোধী দল হয়েছিল (বিএনপি)। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলে বসে। এর আগে ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদে বিরোধী দল হিসেবে পেয়েছিল ৮৮টি আসন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৭৬টি। সেই তুলনায় ৬৮ আসন নিয়ে এবার জামায়াত চতুর্থ বৃহত্তম একক বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে গঠিত প্রথম সংসদে বিরোধী দলের সদস্য ছিলেন মাত্র সাতজন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের আসন ছিল ৩৯টি। ১৯৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত চতুর্থ সংসদে সম্মিলিত বিরোধী দলের আসন ছিল ১৯টি।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং আওয়ামী লীগ ৮৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে যায়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত স্বল্পমেয়াদি ষষ্ঠ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার পদ শূন্য ছিল। একই বছরের ১২ জুনের নির্বাচনে গঠিত সপ্তম সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।
অষ্টম সংসদে (২০০১) ৬২টি আসন নিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা হন। নবম সংসদে (২০০৮) বিএনপির আসন ছিল ৩০টি। দশম সংসদে (২০১৪) বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ৩৪টি আসন নিয়ে জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হয় এবং নেতা হন রওশন এরশাদ। একাদশ সংসদে (২০১৮) জাতীয় পার্টির ২২টি আসন ছিল। দ্বাদশ সংসদে (২০২৪) ১১টি আসন নিয়ে জাতীয় পার্টিই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করে।
সংসদীয় বিধান অনুযায়ী, বিরোধী দলীয় নেতার পদ মন্ত্রীর সমমর্যাদাসম্পন্ন। তিনি পূর্ণ মন্ত্রীর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। তবে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর সমমর্যাদা প্রযোজ্য নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৬৮টি আসন নিয়ে জামায়াতের এই অবস্থান সংসদীয় রাজনীতির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও জোটসঙ্গীদের অবস্থান চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী রাজনীতির চিত্র পুরোপুরি স্পষ্ট হচ্ছে না।
/এআর