সুবর্ণা আক্তার
প্রকাশ: ১৩:৫০, ২৪ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
তিস্তার বুকে ছেলেকে নিয়ে আলু খেতে পানি দিতে ব্যস্ত এক কৃষক। সেচ দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তার থেকে জানতে পারি তাদের জীবিকার হালচাল। কৃষকটি জানায় অতি বন্যার জন্য তারা ছয় মাস কাজ করে আর বাকি ছয় মাস তাদের কাজ বন্ধ থাকে। বন্যার সময় তাদের প্রধান আয় হয় মাছ ধরা থেকে। আর শুকনো মৌসুমে চরের বুকে বিভিন্ন সবজি- ফসল চাষাবাদের মাধ্যমে। তাও সেখানে প্রতিনিয়ত সেচের জন্য সংগ্রাম করতে হয়। এছাড়া নদীভাঙন, সমুদ্রের অতি লবণাক্ততা সমস্যাগুলা ত আছেই।
খালি চোখে আমরা সাধারণ মানুষ এসবকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল হিসেবে সহজেই সজ্ঞায়িত করে ফেলি। কিন্তু এটা শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলাফল না বরং এটা জলবায়ু বর্ণবাদের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ। যা তিস্তার মানুষের ন্যায় আরও অনেক দেশের মানুষ ভোগ করছে।
জলবায়ু বর্ণবাদ বলতে আমরা কি বুঝি তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা যাক। জলবায় বর্ণবাদ হচ্ছে জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের সব অঞ্চলের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি উন্নত বিশ্ব যেমন ইউরোপ আমেরিকার মত দেশের মানুষ আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে কম জলবায়ুর সমস্যায় ভোগে।
কিন্তু বাস্তবে দেখতে গেলে এসব উন্নত বিশ্বই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধানত দায়ী। তাদের অতি মাত্রায় কার্বন নিঃসরণের কারণেই আজকের জলবায়ুর এই বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করছে তিস্তার মানুষের মত অন্যান্য দেশের মানুষেরা। এই যে কার্বন নিঃসরণ করছে কিছু দেশ আর ফল ভোগ করছে অন্য দেশগুলা এটাকে আবার বলে জলবায়ু অবিচার।
জলবায়ুর পরিবর্তন যাদের জন্য হচ্ছে এর দায়ও তাদেরই নিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখি উন্নত বিশ্ব গুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা বললেও তার সঠিক বাস্তবায়ন হয় না। যতটুকু হয় তা আবার যথেষ্ট নয়। মোটকথা কার্বন নিঃসরণ যতক্ষণ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এর কোন পরিত্রাণ নেই।
আবার অনেক উন্নত বিশ্বের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যে তাদের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ দায়ী তা মানতে চান না। তাদের এমন ব্যবহারের জন্য অনেক পরিকল্পিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে যা জলবায়ুর বর্ণবাদের ক্ষতিগ্রস্থদের উপকারে আসতো।
জলবায়ুর এই বর্ণবাদ ও অবিচার থেকে পরিত্রাণ পেতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে উদ্যােগ নেওয়া অতি জরুরি। যেসব দেশ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী তাদের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বিভিন্ন আর্থিক সাহায্য করা সেই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। জাতীয় পর্যায়ের জন্য করণীয় হচ্ছে টেকসই নদীবাধ, জলবায়ু সহিষ্ণু বিভিন্ন ফসল সরবরাহ করা, নদীর পাড়ের মানুষকে জলবায়ু বৈষম্য ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে অবগত করতে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করা। পাশাপাশি দেশীয় গণমাধ্যমের কাজ হবে বেশি বেশি জলবায়ু বৈষম্য রোধে করণীয় বিষয়গুলা প্রচার করা যাতে সাধারণ জনগণ সচেতন হতে পারে। বিভিন্ন বেসরকারি এনজিও এ বিষয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান কর্মসূচি গ্রহণ করা সহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাহলে তিস্তার মত অঞ্চল থেকে জলবায়ু বর্ণবাদ দূর হবে এবং প্রতিষ্ঠা পাবে জলবায়ু ন্যায়বিচার।
লেখক,সুবর্ণা আক্তার
শিক্ষার্থী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
জিএ