হারুন ইসলাম, ঢাবি
প্রকাশ: ২২:০১, ১৯ আগস্ট ২০২৫
ছবি : সম্পাদিত
আসন্ন ডাকসু নির্বাচন-২০২৫ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতির অঙ্গন। শিক্ষার্থীদের আড্ডা থেকে ক্লাসরুম—সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্র এখন ডাকসুর ভোট। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শিক্ষার্থীরা আসলে কী চায়?
দ্য নেক্সট নিউজের সঙ্গে আলাপে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ডাকসুর ইশতেহারে শুধু প্রতিশ্রুতির বন্যা নয়, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানের রূপরেখা দেখতে চান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী নুজায়মা নার্গিস প্রিয়ন্তি বলেন , ‘আমরা এমন একটি ডাকসু চাই, যেটা সত্যিই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে। আবাসন সংকট, লাইব্রেরির সীমাবদ্ধতা, ক্লাসরুমের সুযোগ-সুবিধার অভাব—এসব নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ আমরা দেখতে চাই।’
‘প্রার্থীরা যেন দলীয় স্বার্থ নয়, ছাত্রস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। নতুন ডাকসু হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ যোগ করেন তিনি।

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি
অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মেধা রহমান বলেন, ‘হোস্টেল থেকে লাইব্রেরি, টিউশন থেকে বাসায় ফেরার পথে—সব জায়গায় যেন নিরাপদ পরিবেশ থাকে। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তার মতে, কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবে ‘হয়রানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং সহায়ক সেল’ গঠন জরুরি।

আবাসন সংকট ও হল রাজনীতি
শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের শিক্ষার্থী রামিসা রহমান মনে করেন, সিট বণ্টনে দলীয় প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছতা আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ন্যায্যভাবে থাকার সুযোগ পায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
রামিসা আরও বলেন, ‘হলে দখলবাজি আর সিন্ডিকেট রাজনীতি বন্ধ করতে সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

নেতৃত্ব বিকাশ ও অপসংস্কৃতি দূরীকরণ
ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ সামিদ বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন কিংবা গণরুম-গেস্টরুম নামের অপসংস্কৃতি—এসবের স্থায়ী সমাধান চাই।’
তার মতে, আবাসিক হলে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব থেকেও শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে।

ডাকসু হোক অরাজনৈতিক
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মু. নাসরুল্লাহ ফাহিম মনে করেন, ডাকসুর চরিত্র অরাজনৈতিক হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু ডাকসু সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে, তাই কোনো রাজনৈতিক প্যানেল নয়, যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিই নির্বাচিত হওয়া উচিত। লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা-শিল্পের সেতুবন্ধন।’
শিক্ষার্থীদের এসব প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে, তা নির্ভর করছে নির্বাচিত নেতৃত্বের ওপর। তবে স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে চাইলে প্রার্থীদের ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের মূল সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সমাধানের বাস্তবভিত্তিক পথ দেখাতে হবে।