খেলাপি ঋণে জর্জরিত সরকারি ব্যাংক: সংকটে আর্থিক স্থিতিশীলতা

শারমিন আক্তার 

প্রকাশ: ১৩:২৭, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

খেলাপি ঋণে জর্জরিত সরকারি ব্যাংক: সংকটে আর্থিক স্থিতিশীলতা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দখলে। সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ২৫–৩০ শতাংশই এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি, যার বড় অংশই সরকারি ব্যাংকগুলোর। বিপরীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে কম।

সরকারি ব্যাংকগুলোতে মোট ঋণের প্রায় ৪৫-৪৬% খেলাপি হিসাবভুক্ত, যা এক লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে রয়েছে।২০২৪ সালের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১.৮২ লাখ কোটি টাকা এবং তখন ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ১১.১০% ছিল খেলাপি।২০২৩ সালের ডিসেম্বরে খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৩৬ লাখ কোটি টাকা, যা ঠিক আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯%। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্বল ঋণ যাচাই প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব, ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগের অপব্যবহার এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়াই এই সংকটের মূল কারণ।
খেলাপি ঋণের চাপ সামাল দিতে সরকার গত কয়েক বছরে সরকারি ব্যাংকগুলোকে হাজার হাজার কোটি টাকা পুনঃপুঁজিকরণ সহায়তা দিয়েছে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে করদাতাদের ওপরও বাড়ছে চাপ।
বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানালেও বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

লেখক,শারমিন আক্তার 
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর

জিএ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন