প্রকাশ: ১১:৩২, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
জনাব হাসান মোহাম্মদ রোমানের সাথে ইনসাফ চাই! পরিপূর্ণ ইনসাফ! যথাযথ ইনসাফ ও সত্যিকার্থে ইনসাফ! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক জনাব রোমানের সাথে যথাযথ ইনসাফ করা হোক, ঠিক যেভাবে সে তার নিজ বিভাগের ছাত্রদেরকে বিনা অপরাধে জঙ্গি বানিয়ে দিনের পর দিন জেলখানায় বন্দী রেখে ইনসাফ কায়েম করেছিল, ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছিল! ঠিক সেই ইনসাফটা তার সাথে করা হোক
সে যেভাবে ছাত্রলীগের গুণ্ডাদেরকে দিয়ে আইন বিভাগের বিবিধ ছাত্রকে পিটিয়েছিল, ঠিক সেই ভাবে তার সাথে ইনসাফ করা হোক! এক বিন্দুপরিমাণও বেশি ইনসাফ চাই না! একজন ছাত্রকে সে তার ছাত্রলীগের গুণ্ডাদেরকে দিয়ে মাস্টার্স পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে পিটাতে পিটাতে মাটিতে শুইয়ে দিয়েছিল। অনেক অনুনয়-বিনয় করেও শেষ রক্ষা হয় নাই। আহত ছেলেটা সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে তার মুখ থেকে কতিপয় বাক্য শোনা গিয়েছিল। সেই বাক্যমালা গুলো থেকে একটা বাক্য হচ্ছে, ‘রোমানের মত কুলাঙ্গার যেন কোন মায়ের পেটে আর না ধরে!’
শিক্ষক নামের এই কুলাঙ্গার ও নরককীটের আচরণ এতোটা উগ্র ও নোংরা ছিল যে, কোনো কিছুতে সরাসরি বলে ফেলত—তুকে দেখে নিব; তথা ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের লেলিয়ে দিব, আর সেই সাথে তো ছিল—এটেনডেন্সে দেখে নিব! পরীক্ষার খাতায় দেখে নিব! কিভাবে পাশ করস দেখে নিব! কিভাবে বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বের হবি দেখে নিব! এই যেন শিক্ষক নয়, কোনো মাস্তান তার মাস্তানি সুচারু রূপে প্রদর্শন করতে ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েছে!
শিক্ষক নামের এই মাতাল ও সাইকোপ্যাথ সারাক্ষণ অন্যান্য শিক্ষকদের চোগলখুরী ও বদনাম করার মাধ্যমে ক্লাস প্রায় শেষ করে দিত। বাকি দশ থেকে পনের মিনিট রবাদ্দ রাখা হত ছাত্রদের মানসিক নির্যাতন ও নিপীড়ন করার জন্যে! সেই সাথে কে কোন্ বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিসে, কোন স্ট্যাটাসে কতো লাইক পড়েছে—সেই অনুপাতে অত্যাচারের জন্যে সময় বরাদ্দ রাখা হত!
শিক্ষক নামের এই কুশিক্ষক এতোটা বেপরোয়া ছিল যে, আইনের শিক্ষক হয়েও ক্যাম্পাসে গাজা সেবনে উদ্বুদ্ধ করা ও অনুপ্রেরণা জোগাতেও তার বিন্দু পরিমাণ কুণ্ঠাবোধ হত না! শিক্ষক নামের এই বৈষম্যকারী অমানুষটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, দাড়ি-টুপি ওয়ালা লোক দেখলে তার পশ্চাদদেশে চুলকাইত, প্রচণ্ড চুলকাইত।
শুনেছি, এমনকি চুলকাইতে চুলকাইতে তার পশ্চাদদেশ প্রচণ্ড লালাভ বর্ণ ধারণ করত! কতো ছাত্র যে শুধুমাত্র মাদ্রাসা ছাত্র হওয়ার কারণে তার বিমাতাসূলভ ব্যবহার, রাজনৈতিক ট্যাগিং ও বিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হল—শুধুমাত্র ভুক্তিভোগীরাই সেটার সংখ্যা বলতে পারবে! শিক্ষক নামের এই জালেম ও জুলুমবাজ ছাত্রদের মানুষ মনে করতো না; সে মনে করতো সবাই দাস!
প্রাচীনকালের দাস প্রথা যেন সে পরিপূর্ণরূপে প্রায় ফিরিয়ে এনেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রদেরকে দিয়ে—যখন যাকে ইচ্ছা তুচ্চতাচ্ছিল্য করা, বীভৎসভাবে বকাবকি করা, অকারণে বেয়াদব বলা, তুচ্ছ কারণে তার পায়ে ধরিয়ে ক্ষমা চায়তে বাধ্য করা এবং তাকে নিয়মিত তৈল মর্দন না করলে ও তোষামোদি না করলে ক্লাসে দীর্ঘসময় দাঁড় করিয়ে রাখা। প্রতিদিন কাউকে না কাউকে সবার সামনে ক্লাসে অপমানিত ও লাঞ্চিত করা যেন তার নেশা ও পেশা! এমনি কি কেউ উচ্চস্বরে নিঃশ্বাস নিলেও তার ধারপাকড় থেকে রেহাই মিলত না!
শিক্ষক নামের মবের ভবিষ্যদ্বক্তা, মববাজির সিপাহসালার, মবের অগ্রদূত ও মবের মহারাজ আইন বিভাগে ও ক্যাম্পাসে বিবিধ সময় অনেকের সাথে মববাজি করেছে; সেই তুলনায় তাকে আজকে মববাজির কিছুই ফেরত দেওয়া হয় নাই!
সে যেভাবে গুণ্ডা-মাস্তানের সমন্বয়ে টিম গঠন করে লাইসেন্স দিয়ে মানুষকে পিটিয়েছে, তার হাতের কামাই হিসাবে তার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজকে কিছুটা হলেও বিস্ফোরিত হতে পারতো। কিন্তু কারো কারো কাছে আফসোসের বিষয় হলেও তারা তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করে দিল! আমার দৃঢ় বিশ্বাস—ডিপার্টমেন্টের যাদের সাথে সে মববাজি করেছে, তারা আজকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে তার পূর্বের মববাজি সুদে-আসলে শোধিয়ে দিত! যদিও সে মববাজির প্রাক্তন অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাটকবাজির আশ্রয় নিয়ে মববাজি থেকে নিজেকে আজকে সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করে নিল!
জনাব রোমান, জুলুমের বিচারের মাধ্যমে আসিতেছে শুভ দিন! দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছ, দেনা—শোধিতে হইবে ঋণ! আমার এই লেখা নিছক কোনো স্ট্যাটাস না; এটা হল একজন ভুক্তভোগীর জবানবন্দী!
প্রিমিয়ার ব্যাংকের আইন কর্মকর্তা; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী