ছোট উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন আবির ও রিফাতের

ছামিউল চৌধুরী, পাবিপ্রবি

প্রকাশ: ২২:২৪, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ছোট উদ্যোগ থেকে বড় স্বপ্ন আবির ও রিফাতের

ছবি : সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা চত্বরের পাশে বিকেল হলেই ভেসে আসে মশলা মাখা ভাঁজা চিকেনের গন্ধ। আর সেই গন্ধের উৎস দুই তরুণ উদ্যোক্তার ব্যস্ত হাত। বিগত কয়েক মাস ধরে তারা এই ব্যবসাটি করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে স্বপ্ল মূল্যে বিক্রি করছেন চিকেন ফ্রাই। চিকেন ফ্রাই বিক্রি করেই মাসে আয় করছেন ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকা। 

প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে দোকান শুরু করেন এবং কয়েকঘন্টা ব্যাবসা করেন। সন্ধ্যা নামলে তা বন্ধ করে পড়াশোনায় মনযোগ দেন। স্টল খোলার সঙ্গেই চারদিকে ঘিরে নেয় ক্রেতারা এর কারণ তা খেতে সুস্বাদু ও মচমচে। তাদের দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ পর্যন্ত কয়েকটি নতুন স্টল খুলে বসেছেন যা শিক্ষার্থীদেরকে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়। 

‎তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দু’জন শিক্ষার্থী—ইয়াছিন আরাফাত আবির ও রিফাত হোসেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসেই একটি ছোট একটি ফুড কর্নার চালু করেছেন। নাম দিয়েছেন— "Snacks by abir"

‎প্রথমে অল্প টাকায় শুরু করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিক্রি হবে কি না! ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগই এখন আয়ের অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাবনায় টিউশন পাওয়া খুবই কষ্টকর অনেকেই পায়, আবার অনেকেই পায় না। এই ভাবনা থেকেই পরে তিনি একটি চিকেন ফ্রাইয়ের স্টল খুলে বসেন।

‎সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাটির নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন—শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সবাই তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বড় করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখছেন।

‎এই উদ্যোগের কথা জানতে চাইলে আবির বলেন, পাবনায় টিউশন তেমন পাওয়া যায় না। আমি চিন্তা করলাম নতুন কিছু করা যায় কি না। পরবর্তীতে  জলখাবারের স্টলটি খোলার চিন্তা মাথায় আসে। ধীরে ধীরে এখন মাস শেষে ভালো আয় হয়। যা আমার নিজের ও পরিবার উভয় দিক সামলানো যায়। চিন্তা করেছি ভবিষ্যতে আরো বড় করব। এখন ভালোই সাড়া পাচ্ছি এভাবে সবাই সহযোগিতা করলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করতে পারব। 

‎নিজের খরচ নিজে চালানো একজন মানুষের দৃঢ় সংকল্প। এতে আত্মবিশ্বাস, কর্মদক্ষতা, ম্যানেজম্যান্ট এর সবকিছু নিজের ভিতরে আনতে সক্ষম হয়। এই চিন্তা থেকেই আবির ও রিফাত পড়াশোনার পাশাপাশি বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের স্টল খোলা রাখেন। প্রতিদিনের আয় হয়  এক হাজার থেকে বারোশত টাকা। যা মাস শেষে দাড়ায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এতে নিজে ও পরিবারের জন্য একটি সুফল বয়ে আনে।

‎পরিশেষে আবির বলেন, কোন কাজ ছোট নয়। আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজগুলো করি। আমি অন্য শিক্ষার্থীদেরকে  কাজ করতে উৎসাহিত করি।

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন