সকালে চা নাকি কফি?

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪:৩২, ৩০ আগস্ট ২০২৫

সকালে চা নাকি কফি?

ছবি: সংগৃহীত

সকালে চোখ মেলে অনেকের কাছেই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়- চা খাবো না কফি খাবো?

চায়ের ধোঁয়া ওঠা কাপ হাতে না পেলে কারও কারও সকাল সম্পূর্ণ হয় না, আবার কফির তীব্র গন্ধ ছাড়া কেউ কেউ কাজে মন বসাতে পারেন না। আসলে চা ও কফি শুধু পানীয় নয়, দুটোই একেকটা সংস্কৃতি, অভ্যাস আর জীবনযাত্রার প্রতিফলন।

চায়ের স্নিগ্ধতা

বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে চায়ের জায়গাটি অনেকখানি দখল করে আছে। সকালের নাশতায় এক কাপ চা অনেকের কাছে ‘কমফোর্ট ড্রিঙ্ক’। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর উপাদান দূর করতে সহায়ক। চায়ে ক্যাফেইন থাকলেও পরিমাণটা কফির চেয়ে কম।

কেউ কেউ আবার দুধ চা খেতে ভালোবাসেন, কেউ পছন্দ করেন আদা-লেবুর হালকা গ্রিন টি, সব মিলিয়ে চা আমাদের সকালে এক ধরনের পরিচিত উষ্ণতা এনে দেয়।

কফির ঝাঁজ

অন্যদিকে, শহুরে জীবনে কফি এনার্জির প্রতীক। অফিস যাওয়ার আগে কিংবা সারারাত ঘুমানোর পর, সকালে যে চাঙ্গাভাব দরকার, তা দ্রুত এনে দেয় কফি। কফিতে থাকা উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, যা মস্তিষ্কে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং কাজের দক্ষতা উন্নত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি খাওয়া ডায়াবেটিস, লিভারের অসুখ ও এমনকি পারকিনসন্স রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ‘পরিমিত’ শব্দটা বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে। অতিরিক্ত কফি খেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা এমনকি হৃৎস্পন্দন পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

সীমাবদ্ধতা

চা ও কফি, দুটোতেই যেমন উপকারিতা আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। অনেক বেশি চা খেলে শরীর আয়রন শোষণ করে ফেলে। আবার অতিরিক্ত কফি ঘুমের ছন্দ নষ্ট করতে পারে, বাড়িয়ে দিতে পারে উদ্বেগ। তাই যেকোনো পানীয়কেই অভ্যাসের সীমার ভেতরে রাখতে হবে।

তাহলে কোনটা ভালো?

এ প্রশ্নের উত্তর একেবারেই ব্যক্তিগত। যদি আপনি চান ধীরে ধীরে সজাগ হয়ে মেজাজ রাখবেন নিজের লাগামে, তবে চা হতে পারে আপনার সঙ্গী। আর যদি চান মুহূর্তেই ফ্রেশ হয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে, তবে কফিই সেরা। তবে দুটোই হতে পারে দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের ভিন্ন মুডের সঙ্গী। সকালে চা, আর বিকেলে কফি!

জিএ

আরও পড়ুন