টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৩৫, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
শীতের সময় ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। ঠান্ডা পড়তেই গরম গরম খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে এবং বারবার খেতে ইচ্ছে করে। তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ, হরমোনগত পরিবর্তন এবং মৌসুমি আচরণ।
শরীরকে উষ্ণ রাখতে বাড়তি ক্যালরি
শীতকালে বাইরের তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর নিজের স্বাভাবিক উষ্ণতা (৩৭°C) ধরে রাখতে বেশি এনার্জি ব্যয় করে। এই বাড়তি এনার্জির ঘাটতি পূরণ করতে শরীর খাবার চাইতে থাকে। ফলে ক্ষুধা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
সূর্যালোক কমে গেলে হরমোনের পরিবর্তন
শীতে রোদ পাওয়া কমে যায়, দিন ছোট হয়ে আসে। এতে শরীরে সেরোটোনিন নামক হরমোনের মাত্রা কমে। সেরোটোনিন মানসিক স্থিতি বজায় রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই হরমোনের মাত্রা কমে, তখন শরীর বিশেষভাবে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার চায়-যেমন ভাত, রুটি, পাস্তা, নুডলস, মিষ্টি বা ভাজা খাবার।
কমফোর্ট ফুডের প্রতি মানসিক আকর্ষণ
ঠান্ডা আবহাওয়া আমাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে উষ্ণতা খুঁজতে বাধ্য করে। গরম চা, স্যুপ, খিচুড়ি, পিঠা অথবা ভাজা–পোড়া খাবারের প্রতি আকর্ষণ তাই স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। একে বলা হয় কমফোর্ট ফুড ইফেক্ট। এসব খাবার শরীরে ডোপামিন নামক সুখের হরমোন বাড়ায়, ফলে মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খেতে থাকে।
নড়াচড়া কমে যাওয়ায় খাওয়া বাড়ে
শীতে অনেকেই ঘরে বেশি সময় কাটান। বাইরে বের হতে আলসেমি লাগে, হাঁটা বা ব্যায়াম করার প্রবণতাও কমে যায়। কম নড়াচড়ার ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ কমে, কিন্তু সময় কাটাতে বা উষ্ণতা পেতে ঘন ঘন খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে সব মিলিয়ে খাবারের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে ওঠে।
পানি কম পান করার ফলে ভুল বোঝা
শীতকালে পিপাসা কম লাগে বলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। কিন্তু ডিহাইড্রেশন অনেক সময় শরীরে ক্ষুধার মতো অনুভূতি তৈরি করে। পানি না খেয়ে যখন মানুষ খাবার খায়, তখন মনে হয় ক্ষুধা আরও বেড়ে গেছে।
শীতে ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া আসলে খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখা, হরমোনের পরিবর্তন, এবং আচরণগত অভ্যাস। সব মিলেই এই প্রবণতা তৈরি হয়। তাই শীতের মৌসুমে বেশি ক্ষুধা লাগলে সচেতনভাবে পুষ্টিকর, ব্যালান্সড খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।
জিএ