টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৩৪, ২২ মার্চ ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি উত্তেজনার মুখে সম্ভাব্য সংকট সামাল দিতে বিদেশি অর্থায়নের চেষ্টা জোরদার করছে বাংলাদেশ।
লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় গ্রীষ্মের বাড়তি চাহিদা মেটাতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।
প্রধানমন্ত্রী’র অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, আগে থেকে অনুমোদিত বাণিজ্যিক ঋণের সুবিধাগুলো এখন দ্রুত ব্যবহারের প্রক্রিয়া চলছে।
এর মধ্যে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) থেকে ২.১ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা রয়েছে।
এ ছাড়া জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সামলাতে সরকার আরও কিছু সহজ শর্তের ঋণের উৎস খুঁজছে। দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম না বাড়িয়েই সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় কীভাবে সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
গত ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে ১৮ মার্চ ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। নিয়মিত উৎসের পাশাপাশি বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের আলোচনা চলছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন এবং কাজাখস্তান থেকে আরও ২ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমদানির পাইপলাইনে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে নির্ধারিত ১৮টি চালানের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৭টি এসে পৌঁছেছে।
আরও ৫টি জাহাজ আসার পথে থাকলেও বাকি চালানগুলোর সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত। এটি অভ্যন্তরীণ মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম বলেন, বাংলাদেশকে একইসঙ্গে চড়া দাম ও সরবরাহ ঘাটতির দ্বিমুখী চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। তাই দ্রুত নতুন নতুন উৎস খুঁজে বের করা এবং মজুত ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এলএনজি আমদানিতেই বড় অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক এই অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্রমবর্ধমান খরচ সামলানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রক্ষা করা এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।
জিএ