টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৯, ২ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে কয়েকটি সবজি ও সোনালি মুরগির দাম। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। মাছের বাজারেও আকারভেদে ভালো মানের বড় ইলিশের কেজি উঠেছে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে এসে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর কাপ্তান বাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারভেদে বিভিন্ন পণ্যের দামে পার্থক্য রয়েছে। কিছু সবজির দাম বাড়লেও ধনেপাতা ও বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। মাছের ক্ষেত্রেও আকারভেদে দামের পার্থক্য স্পষ্ট।
কাপ্তান বাজার
কাপ্তান বাজারের বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা হয়েছে। কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।
অন্যদিকে ধনেপাতার দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে ২০০ টাকা হয়েছে। বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা হয়েছে। এছাড়া ফুলকপি ৮০, করল্লা ৬০, ঢেঁড়শ ৬০, মুলা ৬০, বরবটি ৮০, গাজর ১৪০ ও আলু ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দয়া গঞ্জের বাসিন্দা মো. মিজান বলেন, ‘১০০ টাকার চিংড়ি নিলাম। ২০ টাকার বরবটি, ২০ টাকার মুলা নিলাম। পরিবারে আটজন সদস্য। চার ছেলে, দুই মেয়ে আমার। আল্লাহ কোনো রকমে বাঁচিয়ে রাখছেন। বাজারে আসলে হিমশিম খেতে হয়।’
মাছের বাজারে কাপ্তান বাজারে রুই ২৮০ থেকে ৩০০, পোয়া ৪০০, পাবদা ৪০০, ছোট পাঙাস ১৬০, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০, মাঝারি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ এবং বড় ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ১ হাজার, বোয়াল ৭০০, বেলে ৯০০ ও টেংরা ৮০০ টাকা কেজি।
কাপ্তান বাজারের ক্রেতা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এক কেজি চিংড়ি কিনলাম। দাম আগের মতোই। তবে সবজির বাজারে কিছু সবজির দাম বেড়েছে। মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগি কিনলাম, কেজি ৩২০ টাকা নিয়েছে।’
বিক্রেতারা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা হয়েছে। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে।
রায়সাহেব বাজার
রায়সাহেব বাজারে টমেটো ১২০, বেগুন ১৮০, ভারতীয় কাঁচা মরিচ ১৫০, করল্লা ৮০, ফুলকপি ৫০, আলু ৩০ ও ধনেপাতা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে কিছু পণ্যের দাম ওঠানামা করছে।
এ বাজারে ছোট পাঙাস ১৭০ ও বড় পাঙাস ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট ইলিশের দাম ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে বড় ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজিতে একটি ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কৈ ৫০০, টেংরা ৭০০ ও তেলাপিয়া ৩৫০ টাকা কেজি।
ক্রেতা আরমান বলেন, ‘বাজারে ইলিশ মাছের দাম বেশি। ছোট সাইজেরগুলোর দাম একটু কম হলেও সেগুলো খেতে বেশি স্বাদ নেই। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ভালো মানের বড় ইলিশ কেনার সাধ্য নেই।’
দুই বাজারেই সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাপ্তান বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুদিপণ্যের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৫, চিনি ১০৫ ও আটা ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০, আদা ১১০ থেকে ১৩০, চায়না রসুন ১৪০ ও দেশি রসুন ৮০ টাকা কেজি। মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি ডজন ১৫০ টাকায়। চালের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও পোলাও চালের দাম দুই মাস ধরে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। খোলা পোলাও চাল ১৮০ ও প্যাকেটজাত ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের মুদি দোকানি মো. জুয়েল বলেন, ‘মানুষের কাছে টাকা নাই। মাসের ১ তারিখ, তাও বসে বসে ঝিমাচ্ছি। ইনকাম না থাকলে মানুষ খাবে কী।’
জিএ