টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩:৪৩, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থায়ী সমাধান ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও ইরানে বিমান হামলার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছেন।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি বাধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়েছে। অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১০২ ডলারের ওপরে উঠেছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকির কাছেই তেহরান নতি স্বীকার করবে না।
প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে হোয়াইট হাউজ থেকে বিবিসি-কে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সব পথই খোলা রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানান, প্রেসিডেন্ট কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশ হচ্ছে, তার অনেকটাই অনুমাননির্ভর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নেবে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই জলসীমার কাছে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনার সময় দুই পক্ষই একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’, অবস্থান পরিবর্তন এবং অবরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনা ভেঙে যাওয়া এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তথ্য আদান-প্রদান ও জীবিকায় নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
/এআর