বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৩৫, ৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনার শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স রুমে ‘Bridging Academia and Industry for Sustainable Development: Research Excellence, Innovation and Industrialization’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (IQAC) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। ক্লাসরুমের শিক্ষার সঙ্গে শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করালেই হবে না, শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় দক্ষ মানবসম্পদ ও কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে। গত ১৭ বছর ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে নানা দুর্নীতি ও দুঃশাসন দেখা গেলেও মানবসম্পদ উন্নয়নে তেমন কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তন হয়নি।
ইউজিসির এ সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে আরও দক্ষ করে তুলতে আগামী জানুয়ারি থেকে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোর্সগুলো হলো—ICT (Information and Communication Technology) & AI (Artificial Intelligence), Employability Skill এবং Ethics and Professionalism। এসব কোর্স শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, একটি আধুনিক ও টেকসই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট জ্ঞান ও উদ্ভাবন যেন দেশের মানুষের কল্যাণ ও জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বেরোবি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। এছাড়া বেরোবি আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ তাজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।
সেমিনারের আলোচনা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—রংপুর গ্রুপের তিস্তা ইউনিভার্সিটি ও রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ (RCMC), সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (SAF), করুপণ্য রংপুর লিমিটেড, ওডু মিডল ইস্ট ডিএমসিসি লিমিটেড, জবলেটিক বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, ঢাকা।
এদিকে, বেরোবির সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত ১৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও কর্মদক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রিমিয়াম ফ্রুটস, আলফাটেক, মিডিয়া রিসোর্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক রংপুর লালবাগ শাখা ও রূপালী ব্যাংক রংপুর তেঁতুলতলা শাখা উল্লেখযোগ্য।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন
জিএ