শেকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৩৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টার থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো এবং ব্যবহৃত পুড়া তেল আনার অভিযোগ উঠেছে ক্যান্টিন পরিচালনাকারী হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন তাঁর পরিচালিত আরেকটি দোকান থেকে ১৫ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সহায়তায় এসব তেল জব্দ করা হয়।
তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। সরেজমিনে জব্দ করা তেল দেখতে ময়লাযুক্ত ছিল এবং তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এসব তেল আগে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল যা স্পষ্ট বুঝা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্যান্টিনে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি বলেন , রাজধানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও কনভেনশন সেন্টারে বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেল সংগ্রহ করে তা পুনরায় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। এসব তেল দিয়ে হুমায়ুন কবিরের পরিচালিত শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিন এবং সেকেন্ড গেট সংলগ্ন খাবার হোটেলে খিচুড়ি, কাচ্চি, তেহারি ও রোস্টসহ বিভিন্ন খাবার রান্না করা হতো বঅলে জানান একাধিক কর্মচারী।
ক্যান্টিনে ব্যবহৃত তেলের মান নিয়ে গত প্রায় আট মাস ধরে অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। তবে এত দিন তেলসহ কাউকে হাতেনাতে ধরা যায় নি। এবার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজ নিয়ে দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকানে তেলগুলো আনার খবর পেয়ে ছুটে যান সাংবাদিকরা এবং সেখানে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান উপস্থিত সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাস্থলে তেলের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তেলগুলো তাঁর এক বন্ধু রেখে গেছেন। তাঁর দাবি, ওই বন্ধু বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন।
এর আগে একই ধরনের তেল আনার অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত প্রমাণের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের তেল আর আনা হবে না উল্লেখ করে হুমায়ুন বলেন, এরপরও এমন তেল আনা হলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দেবে, তা তিনি মেনে নেবেন।
তাঁর ওই বন্ধুকে ঘটনাস্থলে এসে তেল নিয়ে যেতে বলা হলেও কেউ তা নিতে আসেননি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে, দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন দোকানে কর্মরত এক কর্মচারীর বক্তব্যের সঙ্গে হুমায়ুনের বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যান্টিনে এবং সেকেন্ড গেট সংলগ্ন খাবার হোটেলে প্রতিদিন বহু শিক্ষার্থী খাবার গ্রহণ করেন। ফলে খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত তেলের মান নিয়ে এমন অভিযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক হলের ক্যান্টিনে শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করে কেউ ব্যবসা করার সুযোগ পেতে পারেন না। জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, ক্যান্টিনে খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দোকান ও ক্যান্টিন সিলগালা করতে হবে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিষয়টি আমি এখন শুনেছি। এমন কোনো কাজে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তসাপেক্ষে তাঁকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হল থেকেও বের করে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জিএ