টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:৫৩, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত
পবিত্র কোরআন বিশ্বমানবতার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এর নির্দেশনা মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের জন্য পথপ্রদর্শক। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় কোরআনের বিধান বাস্তবে অনুসরণ করে মানবজাতির সামনে আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাই পবিত্র কোরআনের অবতীর্ণ হওয়া সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মহান নিয়ামত।
কোরআন নাজিল হওয়ার বিষয়টি অনেকেই জানেন, আবার অনেকে বিস্তারিতভাবে জানেন না। অথচ মুসলমান হিসেবে এ বিষয়ে সবারই ধারণা থাকা উচিত। কোরআনে নিজেই এর অবতীর্ণ হওয়ার সময় ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।
কোরআন নাজিলের রাত
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ৩–৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরআন একটি বরকতময় রাতে অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেই রাতেই গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। কোরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘রমজান মাসই হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে— যা মানুষের জন্য হেদায়েত, সত্যপথের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্যকারী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবে কদরে।’ (সুরা কদর, আয়াত: ১)
অর্থাৎ লাইলাতুল কদর বা শবে কদরেই পবিত্র কোরআনের অবতরণ শুরু হয়। ‘কদর’ শব্দের অর্থ মর্যাদা, মহিমা ও সম্মান। এ কারণেই এ রাতকে মহিমান্বিত ও মর্যাদাপূর্ণ রাত বলা হয়।
হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ
মহান আল্লাহ শবে কদরের মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, ‘শবে কদর এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতারা ও রূহ তাদের পালনকর্তার নির্দেশে প্রত্যেক কাজের জন্য অবতীর্ণ হয়। এ রাত শান্তি ও নিরাপত্তায় ভরপুর, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা কদর, আয়াত: ৩–৫)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, শবে কদরের এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
সুরা কদর নাজিলের প্রেক্ষাপট
তাফসিরবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.) বনি ইসরাঈলের এক মুজাহিদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি টানা এক হাজার মাস আল্লাহর পথে জিহাদে নিয়োজিত ছিলেন। অন্য একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, বনি ইসরাঈলের একজন ব্যক্তি সারারাত ইবাদত করতেন এবং দিনে জিহাদে অংশ নিতেন। এভাবে তিনি এক হাজার মাস অতিবাহিত করেন।
এ ঘটনা শুনে সাহাবিরা বিস্মিত হন। তখন আল্লাহ তাআলা সুরা কদর নাজিল করে ঘোষণা করেন, শবে কদরের এক রাতের ইবাদত এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এটি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা ও অনন্য অনুগ্রহ।
যে কারণে শবে কদর অতি বরকতময়
শবে কদরের অন্যতম বিশেষত্ব হলো— এ রাতেই লওহে মাহফুজ থেকে সম্পূর্ণ কোরআন দুনিয়ার আকাশে নাজিল করা হয়। এরপর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের ২৩ বছরে ধাপে ধাপে তা নাজিল হয়।
এ রাতকে বরকতময় বলা হয়, কারণ এ সময়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অসংখ্য কল্যাণ ও রহমত নাজিল হয়। ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে ইবাদতরত মুমিনদের জন্য দোয়া করেন এবং শান্তি ও কল্যাণ ছড়িয়ে দেন।
এ রাতেই পরবর্তী এক বছরে সংঘটিত হবে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়। মানুষের জীবন, মৃত্যু, রিজিকসহ নানা বিষয়ে আল্লাহর নির্ধারিত তাকদির অনুযায়ী নির্দেশ কার্যকর করা হয়।
শবে কদর তাই রহমত, বরকত ও ক্ষমার এক মহিমান্বিত রাত। মুসলমানদের জন্য এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে শবে কদরের ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করেন।
/এআর