টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৪২, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। (বুখারি, হাদিস: ৬০৪১)
এই হাদিসে প্রিয়নবী (সা.) কম হাসা ও বেশি কান্নার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অযথা ও অতিরিক্ত হাসাহাসি পছন্দ করতেন না। কেননা বেশি হাসির ফলে মানুষের অন্তরে উদাসীনতা সৃষ্টি হয়। অন্য এক হাদিসে নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, বেশি হাসবে না; কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরের মৃত্যু ঘটায়।
একবার হৃদয়স্পর্শী উপদেশ দিতে গিয়ে তিনি সাহাবিদের বলেন, তোমরা যদি জানতে, আমি যা জানি, তবে নিশ্চয়ই কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা পাপীদের জন্য যে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন, কিয়ামতের ভয়াবহতা এবং হাশরের ময়দানের কঠিন পরিস্থিতি- এসব বাস্তবতা যদি তোমরাও আমার মতো জানতে, তাহলে দুনিয়ার আনন্দ তোমাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে যেত।
আরেক বর্ণনায় এসেছে, “যদি তোমরা এসব জানতে, তবে পানাহারেও আনন্দ পেতে না, আরাম করে ঘুমাতে পারতে না এবং দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে দূরে থাকতে। তখন তোমরা আল্লাহর ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে পথেঘাটে বের হয়ে পড়তে।”
হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে পার্থিব জীবনের প্রকৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। দুনিয়া চিরস্থায়ী আনন্দের স্থান নয়; বরং সামনে রয়েছে আখেরাত, যার হিসাব ও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। তাই মুমিনের উচিত আখেরাতের ভয় হৃদয়ে ধারণ করা, আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে কান্নাকাটি করা এবং তার রহমত ও মুক্তি কামনা করা।
জিএ