শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, মণ্ডপে মন্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:৫৩, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

শুরু হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, মণ্ডপে মন্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

ছবি: সংগৃহীত

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকাল থেকে ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্য এবং চণ্ডীপাঠে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের পূজামণ্ডপগুলো। আগামী বুধবার বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের এই মহোৎসব।

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা সম্পন্ন হবে। এরপর সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) অনুষ্ঠিত হবে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস। সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন হচ্ছে ঘোটকে (ঘোড়া) এবং বিদায় নেবেন নৌকায়। শাস্ত্রমতে, অসুর শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠায় দেবতাদের সম্মিলিত তেজ থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী দুর্গা। তিনি কৈলাস থেকে কন্যা রূপে মর্ত্যলোকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসছেন এমন বিশ্বাসেই ভক্তরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নিচ্ছেন।

এবার দুর্গাপূজার তিথিতে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। কাল শনিবার ও পরদিন রোববার মিলিয়ে দুই দিনব্যাপী পালিত হবে মহাসপ্তমী। এরপর আগামী সোমবার মহাঅষ্টমী ও মঙ্গলবার মহানবমী শেষে বুধবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবীকে। বিজয়া দশমীর দিন বেলা তিনটায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যমতে, এ বছর দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের (৩২ হাজার ৩৫১টি) তুলনায় বেশি। তবে ঢাকা মহানগরে পূজামণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে, যা গত বছর ছিল ২৬১টি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন পূজা উদযাপনকারী দুই সংগঠনের নেতারা।

পূজার শুরুতেই রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মন্দির প্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রমনা কালীমন্দির ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ প্রধান প্রধান মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন ও আকর্ষণীয় আলোকসজ্জার কাজ শেষ করা হয়েছে।

এদিকে উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও প্রস্তুতিপর্বের কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস জানান, পূজার প্রস্তুতিকালে সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল জেলায় প্রতিমা ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ফরিদপুরের ঐতিহাসিক কালীমন্দিরে চুরি এবং সুনামগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে হামলা-লুটপাটের ঘটনা ঘটে। নওগাঁয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। উৎসবের দিনগুলোতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেখতে চান না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে সারা দেশে নিরাপত্তা বাহিনী জোরদার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানিয়েছেন, এবারের পূজায় সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তায় সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন সদস্য মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি)। বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ জানিয়েছেন, মণ্ডপগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই বিপুলসংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

জিএ

আরও পড়ুন