মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:১৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ অক্টোবর ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান বা নীরোগ থাকাই সুস্বাস্থ্য নয় বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত রূপই হলো প্রকৃত স্বাস্থ্য। তাই কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে অবমূল্যায়ন বা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসাগত বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে থাকা ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি। মানুষের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে সম্মানজনকভাবে গ্রহণ করাই প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখানে শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাবে। এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রেফারেল সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

বর্তমান জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব এবং সেবার সীমিত সুযোগের কারণে অনেকে যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার সেবা সহজলভ্য ও গুণগত মান বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা এবং টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান, সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী মা, শিশু-কিশোর এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসোকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মানুষের কথা শুনতে হবে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না, সহায়তা চাইতে লজ্জিত হবে না কিংবা নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবে না। প্রতিটি মানুষ মর্যাদা ও সম্ভাবনার সঙ্গে একটি অর্থবহ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবে—এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীর সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেছেন।

জিএ

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন