টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৪৭, ৮ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে জনগন। সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে বিলটি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ আকারের এ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
আইনের চার ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের আইনত নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তা নির্ধারিত কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন সেই অভিযোগ তদন্ত করবে।
এ ক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, যদি হত্যার শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।
আইনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগকৃত কর্মকাণ্ড বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধ, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে, যদি তদন্তে দেখা যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ, তাহলে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা দায়ের বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
/এআর