টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৩৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি জানতে চাই। আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে আসছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’
এভাবেই একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের পর আহাজারি করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় ড. নাহিদা বেগমের বাসায় যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় সংসদ সদস্যের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছেলেকে হারানোর কষ্টের কথা জানান তিনি।
নাহিদা বেগম বলেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে?’
এ সময় ছেলের মৃত্যুর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। তার কান্না দেখে নিজেকেও ধরে রাখতে পারেননি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। পরে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে নাহিদা বেগমকে সান্ত্বনা দেন তিনি।
যেভাবে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনটি নেওয়ার জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
জিএ