টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:৩৬, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কানসাস সিটিতে নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনা ও সুজারল্যান্ড ম্যাচে ১-১ সমতা। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ২ গোল করলো আলবিসেলেস্তেরা। তাতে সুইসদের ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। ৭২ মিনিটে এমবোলো লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইজারল্যান্ড। তবু খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২ মিনিটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। আর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। লিওনেল মেসি প্রথমবার খেলবেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আর্জেন্টাইন ভক্তরা খুশি হতে পারেন একটি পরিসংখ্যানে। আর্জেন্টিনা যতবার সেমিফাইনাল খেলেছে ততোবারই ফাইনালে গেছে।
এর আগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটও ছিল নাটকীয়তায় ভরা। ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটে গোলের জন্য দুটি শট নেয় সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনা তেমন আক্রমণ করতে পারছিল না। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। টানা দুটি কর্নার পায় লিওনেল স্কালোনির দল। দুটিই নেন মেসি। দশম মিনিটে নেওয়া দ্বিতীয় কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ম্যাক আলিস্টার। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম গোল।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। তবে গোলের জন্য শট নেওয়াতে এগিয়ে ছিল সুইসরা। ৬৭ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফেরান ড্যান এনদোয়ে।
৭২ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। পারেদেসের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ের সময় পরে যান এমবোলো। মাঠের রেফারি হলুদ কার্ড দেখান পারেদেসকে। তবে ভিএআর ঘটনা যাচাই করে মাঠের রেফারিকে মনিটর দেখার কথা জানায়। সেখানে দেখা যায় এমবোলো নিজেই ডাইভ দিয়েছেন পেরেদেসের স্পর্শে আসার আগে। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন (ম্যাচে দুই হলুদ কার্ডে লাল কার্ড)। ৮৫ মিনিটে আড়াআড়ি পাস পেয়ে সুইস বক্সে গোলকিপার কোবেলকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। ফাঁকি দিতে পারেননি। অফসাইডের পতাকা তোলা হলেও ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায় অনসাইড ছিলেন তিনি।
বাকি সময়ে সমতা ধরে রাখে সুইজারল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটে বেশ কয়েকটি আক্রমণ করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাতেও মেলেনি গোল।
তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে গোল করেন হুলিয়ান আলভারেজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়।
এবারের বিশ্বকাপে এই প্রথম গোল পেলেন না মেসি। তবে এই দল যে শুধুই মেসি নির্ভর নয় তাই যেনো প্রমাণ হলো এই জয়ে। অবশ্য প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট ছিল মেসিরই। তাতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন মেসি। দুই স্ট্রাইকার আলভারেজ আর লাউতারো মার্তিনেজের গোলে স্বস্তি ফিরবে কোচ লিওনেল স্কালোনির মনেও।
বুধবার দিবাগত রাত ১টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের।
জিএ