টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৩১, ১২ মার্চ ২০২৬
তারেক রহমান। সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অতীতে জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার এটিকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চায়।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে দেশে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর রাজনীতি দেশের স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের সব দলের নির্বাচিত সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল, মত বা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা পুনরায় শুরু হয়েছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই যাত্রা শুরু হয়েছে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলন পর্যন্ত গণতন্ত্রের সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা ও বন্দিশালার শিকার হওয়া মানুষের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা ধরে রেখেছেন এবং সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে অবদান রেখেছেন, সেই বীর ছাত্র-জনতাকে তিনি অভিনন্দন জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম করেছেন এবং কখনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।
রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা উল্লেখ করে তারেক রহমান তাঁর একটি উক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বলেছিলেন— “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি।” অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়—এটাই বিএনপির রাজনীতি।
তিনি আরও বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংসদীয় দলের নেতা হয়েছেন। সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এভাবেই একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত ও বিতাড়িত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ, আবার কেউ পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি নজিরবিহীন নয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭৩ সালের কথা উল্লেখ করেন, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
/এআর