টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:০৫, ১০ মার্চ ২০২৬
তারেক রহমান। সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে না পারলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেশের ১৪টি স্থানে একযোগে এ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছিল। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে এখন অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৩৭ হাজার নারী এতে যুক্ত হয়েছেন। রাজধানীর কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারী এ কার্ডের আওতায় এসেছেন।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবার নারীপ্রধান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল। এটি সরকার ও দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে চায়। নির্বাচনের আগে জনগণ ও নারী সমাজের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তার বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে অনেক কৃষকের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও আবেগঘন একটি উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করা এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে অনেক সময় কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে। তবে সরকার দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না।
বক্তব্যের শেষে তিনি তাঁর নির্বাচনী স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ পুনরুল্লেখ করে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। মঞ্চে ওঠার আগে তিনি মাঠে উপস্থিত নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে কাছে পেয়ে উপস্থিত নারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।
/এআর