টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:২৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমান। সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে এবং লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছে জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে, আর এই সরকার একটি সমৃদ্ধ, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অমর একুশে বইমেলা শুধু কেনাবেচার আয়োজন নয়, এটি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠুক বলেও তিনি প্রত্যাশা জানান।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রাঙ্গণে -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ‘সুরসপ্তক’-এর শিল্পীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা ও মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বায়ান্নর ভাষা শহীদদের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই এ আয়োজন এগিয়ে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে মেলা শুরু হলেও এর আবেদন কমেনি; বরং এটি মাতৃভাষার অধিকারের সংগ্রামের এক স্থায়ী স্মারক।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জার্মান দার্শনিক মার্কুইস সিসেরোর উদ্ধৃতি দেন— “বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।” তার মতে, বই পড়া মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ু-সংযোগ তৈরি করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। তবে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্ক্রিনে পড়ার তুলনায় কাগজের বইয়ের অভিজ্ঞতা অধিক গভীর ও উপভোগ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
একটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০২টি দেশের পাঠাভ্যাস মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম; বছরে গড়ে একজন নাগরিক মাত্র তিনটি বই পড়েন। এ চিত্র বদলাতে হলে বইমেলা উৎসবের সীমা ছাড়িয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আন্দোলনে রূপ নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।
বাংলা একাডেমির প্রতি দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘে বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিক মর্যাদা দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি তরুণদের জন্য গবেষণাবৃত্তি, লেখক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কার্যক্রম বিস্তৃত করে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বইমেলাকে ঢাকাকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। তরুণদের মেধা বিকাশে গবেষণাবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেন তিনি।
শেষাংশে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নিরাপদ, মানবিক ও সমৃদ্ধ ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য শেষে তিনি ফিতা কেটে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
/এআর