পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: তারেক রহমান

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৪৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিলখানার ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের অপপ্রয়াস: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত

পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী মাহে রমজানের এই সময়ে গভীর শ্রদ্ধার সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতাকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে একটি রক্তাক্ত ও বেদনাবহ দিন। এই দিন ফিরে এলে সেই বিভীষিকাময় ঘটনার স্মৃতি জাতীয় জীবনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করে। ২০০৯ সালের ওই নির্মম ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে, যার বেদনা দীর্ঘ ১৭ বছর পরও বহমান।

দীর্ঘ সময় পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য এবং সহযোদ্ধার সন্তানের মতোই কথা বলছেন। ওই ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের প্রাণ ঝরে যায়। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার ইতিহাস, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার বেদনাময় অধ্যায় এবং একটি অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প।

দেশে প্রত্যাবর্তনের পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারত করার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শহীদ পরিবারগুলোর দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং বিচারপ্রাপ্তির প্রত্যাশা তাকে নাড়া দিয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতির নৈতিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনীর শিকড় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় তৎকালীন ইপিআর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গৌরবময় ভূমিকা রাখেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সাংগঠনিক সংস্কারে গুরুত্ব দেন। সেনাবাহিনী থেকে মেধাবী কর্মকর্তাদের প্রেষণে নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে বাহিনীটি সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠিত হয়; পূর্বের উইংগুলোকে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয় এবং দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন যুক্ত করে সংগঠনকে সম্প্রসারিত করা হয়।

/এআর

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন