টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১:৪৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টিআইবির সংবাদ সম্মেলন। টিএনএন
জুলাই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় অন্তর্কোন্দলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ত ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এ সময় সংঘটিত মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির সরাসরি বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এই তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত এসব রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৭ হাজার ৮২ জন।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা ছিল ১২৪টি ঘটনায়, যা মোট ঘটনার ২০ দশমিক ৭ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে ৪৬টি ঘটনায় (৭ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) যুক্ত ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে।
টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকে এসব সহিংসতা ঘটছে। বিশেষ করে সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড দখল, চাঁদাবাজি, সিলেট অঞ্চলের কোয়ারি ও নদী থেকে পাথর উত্তোলন, সেতু, বাজার, ঘাট, বালু ও জল মহাল ইজারা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং সহিংস ঘটনায় জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব সংঘাত ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
/এআর