টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:২৩, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রায়ের বাজার এলাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে ইতোমধ্যে ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে এর মধ্যে আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত হওয়া সবাই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
শনাক্ত শহীদরা হলেন—সোহেল রানা (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ (৩২), মাহিন মিয়া (৩২), ফয়সাল সরকার (২৬), পারভেজ বেপারী (২৩), কাবিল হোসেন (৫৮) এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
এই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক ফরেনসিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তৎকালীন সরকারের বর্বরতা ইতিহাসে বিরল উদাহরণ। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, সত্য উদঘাটন ও শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। এই ডিএনএ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া প্রমাণ করে—সত্যকে চিরদিন আড়াল করা যায় না; শহীদদের নাম ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এটি শুধু একটি ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজ পরিবারের বেদনা লাঘব, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়বিচারের পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ। যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য এ উদ্যোগ আশার আলো।
বৈঠকে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, এক শহীদের মা নিয়মিত সিআইডিতে আসতেন এবং রায়ের বাজারে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আশ্চর্যজনকভাবে সেই গাছের নিচেই তার সন্তানের মরদেহ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলেই অস্থায়ী ল্যাব স্থাপন করে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশের ফরেনসিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।
/এআর