ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ২০ লাখ টাকা, লিবিয়ার বন্দিশালায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশীর

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:১৬, ৩০ মার্চ ২০২৬

ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে ২০ লাখ টাকা, লিবিয়ার বন্দিশালায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশীর

মৃত্যুবরণ করা দুই বাংলাদেশী। সংগৃহীত

উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মাদারীপুরের দুই যুবক। সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়। দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় গিয়ে বন্দিশালায় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তারা। পরিবারের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় তাদের ওপর।

নিহতরা হলেন কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার (২৫) এবং ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বিনতিলুক এলাকার প্রয়াত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৩৫)। যদিও মৃত্যুর ঘটনা এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ঘটেছে, বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয় বিলম্বে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে কাতারে যান ইলিয়াস। পরে দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত বছরের আগস্টে লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয় তাকে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে কয়েক দফায় প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। শেষ পর্যন্ত গত ২৩ মার্চ নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর চার দিন পর দালালের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার।

ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার বলেন, ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করেছিলেন তিনি। তবুও ছেলেকে বাঁচাতে পারেননি। বর্তমানে দালাল লাশ দেশে ফেরত আনার আশ্বাস দিলেও সময় নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।

অন্যদিকে, ফারুক হাওলাদারও একইভাবে লিবিয়ায় গিয়ে বন্দিশালায় নির্যাতনের শিকার হন। পরিবারের দাবি, গত ১৮ মার্চ নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়, যদিও ২৫ মার্চ তারা এ খবর জানতে পারেন। চার মাস আগে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় যান তিনি। পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল তাকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে।

ফারুকের পরিবার জানায়, তিনি দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর জানার পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধ মা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাবিব মাস্টার নামে এক দালাল দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তার মাধ্যমে ইতোমধ্যে শতাধিক যুবক লিবিয়ায় গেছেন, যাদের অনেকেই বন্দিশালায় আটকে রয়েছেন। তবে এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নিহতদের স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের একটাই আকুতি—শেষবারের মতো প্রিয়জনদের মুখ দেখতে চান তারা।

/এআর

আরও পড়ুন