টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৩৫, ২৯ মার্চ ২০২৬
সাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভয়াবহ খাদ্য ও পানির সংকটে অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দালালের মাধ্যমে রাবারের একটি বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাঝপথে বোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে যাত্রীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে বাধ্য হয়ে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে থাকা হবিগঞ্জের এক যুবক জানান, গত ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া এসব ব্যক্তিকে ওই ক্যাম্পে আনা হয়। গুরুতর অসুস্থ দুইজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা ক্যাম্পে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), সাহান এহিয়া (২৫) ও মুজিবুর রহমান (৩৮) রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, দালালের সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা গত মাসে বাড়ি ছেড়েছিলেন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর কয়েকদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর রোববার গ্রিসে থাকা পরিচিতদের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর পান তারা।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্রে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
/এআর