টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:১৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
স্বজনদের আহাজারি
পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবানে (টিটিপি) যোগ দিয়ে সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ফয়সাল হোসেন (২২)। অথচ তার পরিবার এতদিন ধরে ভেবেছে তিনি দুবাইতে কর্মরত। হঠাৎ এই মৃত্যুসংবাদ মানতে পারছেন না কেউই।
ফয়সালের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছোট দুধখালী গ্রামে। তিনি রাজধানীর জগন্নাথপুরের আজিজ সড়কে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার বাবা আব্দুল আউয়াল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান এবং বড় ভাই আরামান মোড়ল একটি এনজিওতে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা জানেন না কার প্রভাবে কিংবা কীভাবে তিনি দেশ ছাড়েন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় সেনা অভিযানে ১৭ জন টিটিপি সদস্য নিহত হন। তাদের মধ্যে ফয়সালও ছিলেন। শনিবার দুপুরে এ খবর পায় তার পরিবার। তবে তার মা চায়না বেগমকে প্রথমে বলা হয়, ফয়সাল দুবাইতে গুরুতর অসুস্থ। রোববার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন তিনি এবং ভেঙে পড়েন।
চোখের জলে ভাসতে ভাসতে চায়না বেগম বলেন, “ফয়সাল সবসময় বলতো দেশে কাজ নাই, বিদেশ যাবো। কিভাবে যে চলে গেল বুঝতেই পারলাম না। কয়েক মাস কোনো খবর পাইনি। পরে ফোন করে জানালো দুবাই আছে। মাসে এক-দুইবার কল করতো, তাও বেশি কথা বলতো না। দুই মাস আগে বললো দুবাইতে আছি, এখন শুনি পাকিস্তানে মারা গেছে। আমি তখনও বলেছিলাম— দেশে ফিরে আয়, এখানেই কাজ করো। কিন্তু সে আর ফিরলো না।”
ফয়সালের চাচা হালিম মোড়ল জানান, গত ঈদুল আযহার সময় প্রথমবার পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন ফয়সাল আফগানিস্তানে আছে। তবে ২০২৪ সালের মার্চে দেশ ছাড়ার প্রায় ছয় মাস পর বড় ভাই আরমানকে ফোন করে জানিয়েছিল, সে দুবাইয়ে আছে। তবে বিস্তারিত কোনো প্রশ্নের জবাব দিত না। পুলিশি খোঁজে পরে জানা যায়, সে আসলে পাকিস্তানে গেছে। তখন তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও আর সম্ভব হয়নি।
নিহতের দাদা শুক্কুর মোড়ল বলেন, “ফয়সাল নাতিদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ছিল। এক ওয়াক্ত নামাজও বাদ দিত না। কল্পনাও করতে পারছি না এভাবে সে খারাপ পথে গিয়ে মরবে। যারা ওকে বিপথে নিয়েছে, তাদের বিচার চাই।”
ফয়সালের নানা জয়নাল বেপারী বলেন, “আমার নাতি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। মসজিদের সামনে টুপি-আতর বেচতো। খুব ধর্মীয় পথে চলতো। কিভাবে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারছি না। হে আল্লাহ্, আর কারও যেন এমন দশা না হয়।” তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, ফয়সালের মরদেহ যেন দেশে এনে পরিবারের কাছে দেখার সুযোগ দেওয়া হয় এবং যারা তাকে এ পথে নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “পাকিস্তানে সেনা অভিযানে মাদারীপুরের এক তরুণ নিহত হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবার চাইলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া পাকিস্তান থেকে মরদেহ ফেরত আনার সুযোগ থাকলে সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।”