সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪০, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার ঘটনায় রমনা থানায় করা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের নামে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি ধার্য করেছে আদালত। 

রবিবার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত প্রতিবেদনে দাখিলের নতুন করে এই তারিখ ধার্য করেন। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী এই তথ্য জানান। 

২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান, জনপ্রিয়, সফল এবং কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব সালমান শাহ খ্যাতির চূড়ায় থাকাকালীন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা হলেও পরে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগে তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে একটি আবেদন করেন।দীর্ঘ ২৯ বছরের আইনি লড়াই শেষে গত ২১ অক্টোবর হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগিনা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন সালমান শাহ (২৫) বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় আমার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী এবং আমার বোন জামাতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তার ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যায়। নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ী সিলেট যাওয়ার কথা ছিল। আমার বোন ও বোন জামাতা গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল তাদেরকে জানায়, সালমান ঘুমাইতেছে।

ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিক সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমিয়ে আছে ঘুমে শুনে তার বাবা মা সালমানের স্ত্রী সামিরাকে বলেন, সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাব। এরপর তার বোন জামাতা ও সিদ্দিক তাদের গাড়িতে করে ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন। ঘটনার দিন সাড়ে ১১টার সময় প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের যেন কী হয়েছে। খবর পেয়েই তারা বাসায় ছুটে যান। বাসায় গিয়ে দেখতে পান সালমান তার বেডরুমে পড়ে আছেন। দুই একজন বহিরাগত মহিলা তার হাতে, পায়ে তেল মালিশ করছেন। রুবী নামে একটি মেয়ে বসে আছেন। ওই সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। সালমানের বাবা ও মা সালমানকে নিয়ে হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগ এবং তার মুখমণ্ডল ও পা নীল দেখতে পান। তখন সালমানের মা সালমানকে হলি ফ্যামিলি থেকে তাড়াহুড়া করে ঢাকা মেডিকেলে নেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সালমান শাহ বেশ কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন ডাক্তার নিশ্চিত করেন।

১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সালমান শাহ তার খালার বান্ধবীর মেয়ে সামিরা হককে বিয়ে করেন। সামিরা হক ছিলেন একজন বিউটি পার্লার ব্যবসায়ী। তিনি সালমানের ২টি চলচ্চিত্রে তার পোশাক পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন।

জিএ

আরও পড়ুন