টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:২৭, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় পড়া শুরু হয়।
শুরুতে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসার জন্য যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা, ডিফেন্স আইনজীবী, স্বাক্ষী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিকসহ যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান।
এরপর ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারংশ পড়া শুরু হয়। ১২টা ৪৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের সদস্য মো. মোহিতুল হক রায় কিছু অংশ পড়ে শোনান। এরপর আরও কিছু অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের আরেক সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। রায়ের মূল অংশ এবং উপসংহার পড়ে শোনাবেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার।
ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় পাঁচ অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনা গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। পরে প্রাণঘাতি অস্ত্র, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের দমন করার নির্দেশ দেন। পরে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া, আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনেরও খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবী।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা আরও অনেকে। স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার বিবরণ দিতে ‘অ্যাপ্রুভার’ হিসেবে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে সব অভিযোগের বিচার চলছে।
জিএ