টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:৫৯, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। দীর্ঘ আট মাস ধরে বিচারকাজ চলার পর আজ ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন— সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সহিংসভাবে দমনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্তদের জ্ঞাতসারে ও সংশ্লিষ্টতায় সাধারণ জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।
প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করেছে, এই আন্দোলনে দলের সহিংস অবস্থান ও পদক্ষেপ নিতে বাহাউদ্দিন নাছিম সহায়তা করেছিলেন। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যা ও সহিংসতার খবর প্রচারে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর জন্য শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন নিখিলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, নিখিল নিজে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করা এবং হামলার সমন্বয়ের জন্য ছাত্রলীগের সাদ্দাম ও ইনানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় ১০ মাস পর দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় হলো।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সপ্তম রায় হলো আজ।
দুটি ট্রাইব্যুনালের সাত রায়ে ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ২২ আসামির মধ্যে ১৮ জনই পলাতক। কারাগারে আছেন চারজন।
জিএ