ক্রিডোর প্রতিবেদন

সরকারের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৩৭ নারী, ৯১ জনই শিশু

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:৩৪, ২৫ মে ২০২৬

সরকারের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৩৭ নারী, ৯১ জনই শিশু

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম তিন মাসে দেশে ১৩৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৯১ জনই শিশু, যা মোট ভুক্তভোগীর প্রায় ৬৩ শতাংশ। আর্কাইভভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্রাইসিস ডকুমেন্টেশন সেন্টার (ক্রিডো) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্রিডো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অধিকার এবং ক্রিডোর নিজস্ব তথ্যভান্ডারের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রথম তিন মাসে ধর্ষণের শিকার ১৩৭ নারীর মধ্যে ৯১ জন শিশু এবং ৪৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী। সবচেয়ে বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে। অন্যদিকে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ধর্ষণের সর্বোচ্চ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে মার্চ মাসে, যেখানে ১৫টি ঘটনা ঘটেছে।

একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২২টি। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ২১ জন নারী ও শিশু, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়।

ক্রিডো বলছে, পল্লবীর এই শিশুহত্যাসহ বর্তমান ও পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত সব ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে, গত ২১ মে প্রকাশিত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পৃথক পরিসংখ্যানেও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে অন্তত ৪৬ শিশু। এছাড়া ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অন্তত ১৭ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।

/এআর

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন