মধ্যরাতে বহিরাগতদের নিয়ে ঢাবি ছাত্রদল কর্মীর গাঁজা সেবন, আটক ৪

টিএনএন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:৫১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

মধ্যরাতে বহিরাগতদের নিয়ে ঢাবি ছাত্রদল কর্মীর গাঁজা সেবন, আটক ৪

আটককৃতরা। সংগৃহীত

মধ্যরাতে বহিরাগতদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একটি হলের ছাদে গাঁজা সেবনের সময় ছাত্রদল কর্মীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে শেখ মুজিবুর রহমান হলের (প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদী হল) পুরাতন ভবনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
আটক চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অপর দুজন বহিরাগত। শিক্ষার্থীরা হলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ (আহমেদ আনিম)। তানবীন আহমেদ ছাত্রদল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তিনি বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
অপর দুই আটক বহিরাগত হলেন সামিউল ও রাকিব। তারা রাজধানীর ডেমরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে হলের পুরাতন ভবনের ছাদে লোকজনের উপস্থিতি নজরে আসলে হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান এবং এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় চারজনকে গাঁজা সেবনের প্রস্তুতিকালে পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করে।
আটককৃতদের কাছ থেকে গাঁজা, তামাক পাতা এবং গাঁজা সেবনের সরঞ্জাম (কল্কি) উদ্ধার করা হয়।
বহিরাগত সামিউল জানান, তিনি ও রাকিব ধানমন্ডিতে একটি কাজে এসেছিলেন। রাত হয়ে যাওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে হলে ওঠেন। অন্য হলের ছাদে কেন অবস্থান করছিলেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিলেন এবং শারীরিক অস্বস্তির কারণে ছাদে যান।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ বলেন, তারা ওই হলে একটি কাজে এসেছিলেন। পরে ভালো না লাগায় ছাদে যান। শুরুতে তিনি মাদক সেবনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও উদ্ধারকৃত আলামতের বিষয়ে প্রমাণ দেখানোর পর স্বীকার করেন যে এসব সরঞ্জাম তাদের সঙ্গেই ছিল।
ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য রিপন বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। বহিরাগতদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
হল সংসদের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় থেকে হল সংসদের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এক হলের শিক্ষার্থী অন্য হলে বহিরাগত নিয়ে মাদক সেবনে জড়িত থাকার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ উল্লেখ করে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গাঁজা সেবনের তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে। আটককৃত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে হল প্রশাসনের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এআর

সম্পর্কিত বিষয়:

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন