টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫২, ১৪ জুন ২০২৬
মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “জনগণের রক্তের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে?”
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ঢাকা-১৪ আসনের এই সংসদ সদস্য তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে সীমান্ত হত্যা এবং অবৈধ পুশ ইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলেন।
মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে তাকে জানানো হয়েছিল যে রোববার বিষয়টি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর প্রকাশিত কার্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু রোববার সকালে প্রকাশিত নতুন কার্যসূচি থেকে তা বাদ দেওয়া হয় এবং ‘অনিবার্য কারণবশত’ প্রস্তাবটি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন স্থগিত করা হলো? জনগণের রক্তের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী হতে পারে?” একই সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে আলোচনার সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান।
জবাবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়নি। বাজেট অধিবেশন চলমান থাকায় সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সে কারণেই বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। খুব শিগগিরই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে।
ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, এটি কেবল একটি সাময়িক সিদ্ধান্ত। প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে তা আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে।
এর আগে বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সীমান্ত হত্যা ও পুশ ইন ইস্যুতে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হওয়াকে কেন্দ্র করে এদিন সংসদে সংক্ষিপ্ত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে ডেপুটি স্পিকারের আশ্বাসের পর বিষয়টি আপাতত মীমাংসা হয়। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান দ্রুত এ বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আয়োজনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
/এআর