টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:২২, ১৪ জুন ২০২৬
সংসদে বক্তব্য রাখছেন মনিরুল হক চৌধুরী। সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে নিকাব পরা নারী সাংসদদের নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদ, সংসদে হাস্যরস এবং পরে ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী নিকাব পরা নারী সাংসদদের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, সংসদে নতুন নির্বাচিত নারী সদস্যরা মেধাবী এবং তাদের ভবিষ্যৎ রয়েছে। তবে নিকাব পরিধানের কারণে তিনি তাদের চিনতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমাদের বোনেরা এমপি হয়ে এসেছেন। সবাই মেধাবী, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো, আপনারা কারা?”
তার এই মন্তব্যে বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান এবং হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়। পরে তিনি আরও বলেন, “আপনারা এদিকে দেখতে পারেন, আমরা এদিকে দেখলে বুঝব না কী আছে, এটা ঠিক না তো!”
এ সময় বিরোধী দলীয় সদস্যরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হস্তক্ষেপ করেন। তিনি মনিরুল হককে সতর্ক করে বলেন, কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বা পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি সংসদ সদস্যদের ‘পার্সোনাল ফ্রিডম’-কে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
এর আগে নিজের বক্তব্যে মনিরুল হক একটি অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি একজন নারীকে চিনতে না পেরে জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সায়েদ আব্দুল্লাহ মো. তাহের-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী কোথায়। পরে তিনি জানতে পারেন, নিকাব পরা ওই নারীই তার স্ত্রী ছিলেন। এ প্রসঙ্গ টেনেও তিনি নিকাব নিয়ে মন্তব্য করেন।
মনিরুল হকের বক্তব্য সংসদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিরোধী সদস্যদের আপত্তি এবং ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিষয়টি সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। নিকাব পরিধানকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজন সদস্য তার মন্তব্যের সমালোচনা করেন।
ঘটনাটি সংসদের ভেতরে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং জনপরিসরে নারীদের পোশাক নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
/এআর